| বঙ্গাব্দ

গণঅধিকার পরিষদে সাংগঠনিক অস্থিরতা: দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান অব্যাহতি | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 08-01-2026 ইং
  • 2693519 বার পঠিত
গণঅধিকার পরিষদে সাংগঠনিক অস্থিরতা: দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামান অব্যাহতি | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: শাকিল উজ্জামান

নির্বাচনের আগে গণঅধিকার পরিষদে বিশৃঙ্খলা: দপ্তর সম্পাদক শাকিল পদ থেকে অব্যাহতি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-কে কেন্দ্র করে যখন দেশের রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও নির্বাচনী প্রস্তুতি গোছাতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এক সাংগঠনিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদে (জিওপি)। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি ছাড়া বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানকে তার পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতির কারণ ও সাংগঠনিক কঠোরতা

আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) হাসান আল মামুন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলের সভাপতি (নুরুল হক নুর) এবং সাধারণ সম্পাদকের (রাশেদ খান) কোনো অনুমতি ছাড়াই শাকিল উজ্জামান দলীয় সিদ্ধান্তের নামে ভুয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন।

এই সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার দায়ে তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তার লিখিত জবাব আগামী ৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের মাত্র এক মাস আগে দলের ভেতর এমন গ্রুপিং ও অবাধ্যতা দলটির ইমেজ সংকটের কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের পরিক্রমায় দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ১৯৪৭-এর দেশভাগ এবং ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলনের প্রতিটি বাঁকেই রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ছিল মূল শক্তি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত বহু নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটেছে।

  • ১৯৭১-২০২৪: স্বাধীনতার পর জাসদ, বিএনপি ও পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির মতো নতুন রাজনৈতিক দলগুলো বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছে। ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কালক্রমে ২০২১ সালে ‘গণঅধিকার পরিষদ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

  • ২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিবন্ধিত দল হিসেবে গণঅধিকার পরিষদ ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দেয়। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসে দপ্তর সম্পাদকের এই অব্যাহতি দলের ভেতরকার দীর্ঘদিনের মতবিরোধের বহিঃপ্রকাশ বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নির্বাচনী ডামাডোল ও অস্থিরতা

২০২৬ সালের শুরু থেকেই বাংলাদেশ এক উত্তাল সময় পার করছে। একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু পরবর্তী শোক ও নেতৃত্ব পরিবর্তন, অন্যদিকে গত কয়েক দিনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুছাব্বির এবং ইনকিলাব মঞ্চের হাদি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। এমন পরিস্থিতিতে গণঅধিকার পরিষদের মতো একটি উদীয়মান দলে শৃঙ্খলা ভঙ্গের ঘটনা ভোটারদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

হাসান আল মামুন বলেন, "দলের নীতি ও আদর্শ রক্ষায় আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ২০২৬-এর নির্বাচনে স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত।"


সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)।

২. গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

৩. নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলসমূহের বার্ষিক প্রতিবেদন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency